|
বিচারবুদ্ধির আলোকে জাবর ও এখ্তিয়ার

জাবারিয়্যাহ্ চিন্তাধারায় নীতিগতভাবেই মনে করা হয় যে, বিচারবুদ্ধি (‘আক্বল্) বা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সত্যে উপনীত হওয়া যায় না, বিশেষ করে আল্লাহ্ তা‘আলার গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্বন্ধে সঠিক ধারণা লাভ করা সম্ভব নয়। আর মজার ব্যাপার হলো, তাঁরা তাঁদের এ মত প্রমাণের জন্যই যুক্তিতর্কের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন।
জাবারিয়্যাহ্ মতের একটি যুক্তি হচ্ছে এই যে, মানুষকে স্বাধীন এখতিয়ারের (স্বাধীন ইচ্ছা ও কর্মক্ষমতার) অধিকারী মনে করা মানে আল্লাহ্ তা‘আলাকে অক্ষম গণ্য করা এবং মানুষকে ছোট ছোট খোদা রূপে গণ্য করা।
তাঁদের এ যুক্তি একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছাশক্তি ও ক্ষমতা যেখানে তাঁর নিজস্ব, বরং তাঁর সত্তার বহিঃপ্রকাশ অর্থাৎ তাঁর সত্তা, ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতা স্বতন্ত্র নয়, সেখানে মানুষের সত্তা, ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতা পরস্পর স্বতন্ত্র এবং তিনটিই আল্লাহ্ তা‘আলার সৃষ্টি; তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ও তাকে এ দু’টি বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তার স্বাধীনতা ও এখতিয়ার আল্লাহ্ তা‘আলারই দান। আল্লাহ্ তা‘আলা চাইলেই তার এখতিয়ার কেড়ে নিতে পারেন বা তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন (যদিও সৃষ্টির কল্যাণার্থে অপরিহার্য না হলে তিনি হস্তক্ষেপ করেন না)। অতএব, মানুষকে এখতিয়ারের অধিকারী গণ্য করা মানে তাদেরকে ছোট ছোট খোদা গণ্য করা Ñ এরূপ যুক্তি অপযুক্তি বৈ নয়। অন্যদিকে আল্লাহ্ তা‘আলা সব সময় ও মানুষের সব কাজে হস্তক্ষেপ করেন না মনে করা মানে আল্লাহ্ তা‘আলাকে অক্ষম গণ্য করা Ñ এ-ও একটি অপযুক্তি। কারণ, তিনি সর্বাবস্থায় ও সব সময় হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় এ থেকে বিরত থাকেন।
|
|
Read more...
|